বিগত বছরের প্রথম দিকে ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে মুম্বাই বাসীদের রাজ প্রাসাদের মতো একটি রেস্তোরাঁ উপহার দিয়েছিলেন শাহরুখপত্নী খ্যাতনামা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গৌরী খান। শখ করে রেস্তোরাঁর নাম রেখেছেন ‘তরী’।
এদিকে রেস্তোরাঁর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভক্তরা। অনেকেই ছুটে গেছেন শাহরুখপত্নীর রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ নিতে। তবে অঘটন ঘটেছে সেখানেই। যে ‘তরী’ নিয়ে এত হইচই সেই রেস্তোরাঁই কিনা এখন খাবারের গুণগত মান প্রশ্নের কাঠগড়ায়।
সম্প্রতি তরীতে নকল পনির পরিবেশন করার অভিযোগ তুলেছেন মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় ফুড ব্লগার সার্থক সচদেব। তারপর থেকেই নেটপাড়ায় সমালোচনার মুখে গৌরী খানের সাধের রেস্তোরাঁ।
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সার্থকের দাবি, তরীতে নকল পনির পরিবেশন করা হয়। সার্থক বরাবরই মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় রেস্তরাঁগুলিতে ঢুঁ মেরে তাদের খাবারের মান নিয়ে রিভিউ দেন। এর আগে ভিরাট কোহলি, ববি দেওল, শিল্পা শেট্টি প্রত্যেকের রেস্তোরাঁয় গিয়েই পনিরের গুণগত মানের পজিটিভ রিভিউ দিয়েছেন তিনি। তবে গৌরীর রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত পনিরের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে তিনি রীতিমতো হতাশ!
সামাজিক মাধ্যম ইন্স্টাতে সার্থক যে ভিডিও শেয়ার করেছেন সেখানে দেখা গেল, তরীতে পরিবেশিত পনিরের উপর আয়োডিন ফেলে পরীক্ষা করতেই তিনি দেখেন সাদা পনির পুরো কালো হয়ে গেল। এই পরীক্ষা সাধারণত স্টার্চের উপস্থিতি শনাক্ত করতেই ব্যবহৃত হয়। আয়োডিনের সংস্পর্শ এলে পনির কালো কিংবা নীল হয়ে যায়। গৌরীর রেস্তোরাঁয় দেওয়া পনিরেরও সেই হালই হয়েছিল। যা দেখে হতবাক হয়ে যান ওই ইউটিউবার। তাকে বলতে শোনা যায়, “শাহরুখ খানের রেস্তোরাঁয় নকল পনির পরিবেশন হয়। দেখে তো আমি হতবাক হয়ে গেলাম।”
তবে ওই ভিডিওতেই বাকি তারকাদের রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত পনিরকে ভালো বলে দাবি করেছেন তিনি। কারণ তার আয়োডিন পরীক্ষায় সব ক’টা রেস্তোরাঁ পাশ করেছে। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় মারাত্মক শোরগোল। বিপাকে পড়ে শেষমেশ মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে গৌরীর ‘তরী’ সংস্থা। সার্থকের ভিডিওর কমেন্ট বক্সেই প্রতিক্রিয়া দেয় ওই রেস্তোরাঁ কতৃপক্ষ। তাদের দাবি করেন, “আয়োডিন পরীক্ষা পনিরে স্টার্চের উপস্থিতি প্রমাণ করে, পনির নকল না আসল, সেটার সত্যতা যাচাই করে না। যেহেতু আমাদের পরিবেশিত পনিরে সোয়া-ভিত্তিক উপাদান রয়েছে, তাই পনিরের রং বদলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আমরা অতিথিদের বিশুদ্ধ পনির পরিবেশন করি। এতে কোনও ভেজাল নেই।”এ বিষয়ে নয়ডার পুষ্টিবিদ কিরণ সোনিও একই কথা বলেছেন, আয়োডিন টেস্ট পনির নকল কিনা, সেটা নিশ্চিত করতে পারে না। তাই রীতিমতো ভোজনরসিকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে সার্থক কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন কাজ করেছে কিনা।