বিশ্বকে বদলানোর মতো দুর্দান্ত আইডিয়া আছে বাংলাদেশের: ড. ইউনূস

বাংলাদেশের ভাবনা, উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক চেতনার মধ্যেই আছে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার শক্তি—এমনটাই মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু নিজের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দিতে পারে।
 

২০২৫ সালের বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ৯ এপ্রিল, বুধবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। যদিও চার দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয় ৭ এপ্রিল, তবে প্রধান উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এদিন। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরা এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে প্ল্যাটফর্মে আনা।
 

ড. ইউনূস বলেন, একসময় ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের এক ক্ষুদ্র গ্রাম থেকে, অথচ আজ সেটিই পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যবসায়িক পরিসরে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো দেশে নতুন ব্যবসার অনেক সুযোগ রয়েছে—এগুলো কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে। বক্তব্য দিতে দিতে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান উপদেষ্টা, কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান কণ্ঠ।
 
অনুষ্ঠানে বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে পুরস্কার পায় ওয়ালটন, বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে বিকাশ, পাশাপাশি স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস ও ফেব্রিকস প্রতিষ্ঠান দুটিও সম্মাননা পায়। বিশেষ ক্যাটাগরিতে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং-কে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। ড. ইউনূসের বক্তব্য ও সম্মেলনের এই সম্মাননা অনুষ্ঠান তুলে ধরে এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা—যেখানে বাংলাদেশ কেবল উন্নয়নের গল্প নয়, বরং বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্বপ্নও বুনে যাচ্ছে।

সূত্র ইনকিলাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *