সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। এই বৈঠকে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে গণহত্যা চালিয়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চান ড. ইউনূস। আর এতেই যেনো জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে ভারতের গোদি মিডিয়াগুলো। দুই দেশের সরকার প্রধানের এই বৈঠক ঘিরে নানা মিথ্যচার করছে তারা।
ভারতীয় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি ড. ইনূসকে মিটিং রুমের বাইরে ২৭ মিনিট ধরে দার করিয়ে রেখেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যা পুরোপুরি হাস্যকর। কারণ হলো, ড. ইউনূসের জন্য মোদি ওলটো অপেক্ষা করে ছিলেন, যা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট। আর ব্যাংককের ট্রাফিক জ্যামের কথাতো সকলেরই জানা সুতরাং উল্টো মোদিকে অপেক্ষায় থাকতে হয় বাংলাদেশের সরকার প্রধানের জন্য। শুধু এতটুকুই নয় ওদের দাবি ড. ইউনূস এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় নরেন্দ্র মোদি তাকে ঢুকতে দিতে বলেন, যে দাবিটি একটি সংবাদমাধ্যম হিসেবে পুরোপুরি অশিক্ষিত সাংবাদিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। কারণ, বিমসটেকের মত আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে কোন দেশের সরকার প্রধান কখন কার সাথে বৈঠক করবেন তা পূর্ব নির্ধারিত থাকে। সুতরাং ড. ইউনূসের সাথে মোদির বৈঠকটিও পূর্ব নির্ধারিতই ছিলো।
ভারতীয় গোদি মিডিয়াগুলোর বাংলাদেশ আর ড. ইউনূস নিয়ে সুযোগ পেলেই সমালোচনা যেনো করতেই হবে। প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ছাড়া ওদের যেনো আর কোন কাজ নেই। তাদের আরেকটি দাবি হলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে ড. ইউনূসকে নাকি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি। যেটি ভূলভাবে উপস্থাপন করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। কারণ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে কথা বললে ড. ইউনূস সাফ জানিয়ে দেন বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে না বরং এগুলো মিথ্যাচার। এর পাশাপাশি তিনি ভারতীয় মিডিয়াগুলোকে বাংলাদেশে এসে অনুসন্ধান করার আমন্ত্রণও জানান।
এদিকে প্রথমবারের মতো দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ড. ইউনুসের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এমনটিই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এই বৈঠকের বিষয় নিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু উত্থাপনের সময়ও নেতিবাচক ছিলেন না মোদি। তাই হাসিনাকে ঢাকায় প্রত্যর্পণ করা হবে বলে বিশ্বাস প্রেস সচিবের। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন হাসিনার বিচার দেখতে পাবেন। শুধু এতটুকুই নয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাজের প্রশংসা করেন। বৈঠকে ড. ইউনূসকে মোদি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকাকালীন আমরা আপনার প্রতি তার অসম্মানজনক আচরণ দেখেছি। কিন্তু আমরা আপনাকে সম্মান জানিয়েছি।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের এই ফেসবুক পোষ্ট থেকেও পুরোপুরি পরিস্কার যে ভারতীয় গোদি মিডিয়াগুলো মিথ্যাচার করছে। যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ড. ইউনূসকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সম্মান দেখিয়েছেন সেখানে পোপাগান্ডা ছাড়াচ্ছে সেদেশেরই হলুদ মিডিয়াগুলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালানোর পর থেকেই অবশ্য সেদেশের কিছু দালাল মিডিয়া সুযোগ পেলেই প্রোপাগান্ডা ছড়ায় বাংলাদেশ নিয়ে। এটিও যেনো সেটিরই অংশ।
সূত্র : ইনকিলাব