শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও শাইনপুকুর ম্যাচের দুটি আউটরে ঘটনায় তোলপাড় বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। আউট দুটি এবার তদন্ত করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ষোঘণা দেয় দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
জয়ের জন্য দরকার ৬ রান, হাতে ১ উইকেট। অবনমনের শঙ্কা মাথায় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের, গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সামনে সুপার লিগ খেলার হাতছানি। এমন সময়ে মিনহাজুল আবেদীন সাব্বিরের আউটটি দেখে ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে বিস্ময়, ‘শকিং! আমি এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ যে আউট এরপর তোলপাড় তোলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
ব্যাটসম্যান মিনহাজুল আবেদীনকে এগিয়ে আসতে দেখে ওয়াইড করেছিলেন নাঈম ইসলাম। কিপারের কাছে বল যাওয়ার আগেই ব্যাটটা ক্রিজের ভেতর নেওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল মিনহাজুলের কাছে। প্রথমবারে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি গুলশানের উইকেটরক্ষক আলিফ হাসান। এই সময়ের মধ্যেই ব্যাটটা তিনি দাগের ভেতরেও নিয়েছিলেন, কিন্তু পুরোটা সময়ই তা শূন্যে ভাসিয়ে রেখেছেন মিনহাজুল। পরের দফায় স্টাম্পে লাগিয়ে গুলশানের জয় নিশ্চিত করেন আলিফ।
এই আউটের পর ৫ রানের জয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত হয় গুলশানের।
আউটটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উঠেছে প্রশ্নের ঝড়। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ক্রিকেটার শামসুর রহমান লিখেছেন, ‘সিরিয়াসলি শেইম।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস দুটি আউটের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘ছি!’
এর আগে ৩৬তম ওভারে একটি আউটও প্রশ্ন তৈরি করে। নিহাদ উজ জামানের বল ক্রিজ ছেড়ে অনেকটা বেরিয়ে খেলতে গিয়ে টার্নে হার মানেন রহিম আহমেদ। অনেক বাইরের বলে তিনি কাছে যাওয়ার চেষ্টাও করেননি সেভাবে। ডিফেন্সের মতো ভঙ্গি করে পেছনে ফেরার চেষ্টাও না করে ফিরে যান সাজঘরে।
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের দুই ব্যাটসম্যানের আলোচিত আউট নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান কোচ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ এক মুখ হাসি নিয়ে বলেন, ‘এমন অভিনয় করে খেলা… সেই অভিনয়ও কত কাঁচা…’
বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘বিসিবি নতুন করে খেলার সততা ও নৈতিকতার মানদণ্ড, সবকিছুর ওপরে রাখার প্রতিশ্রুতির কথা জানাচ্ছে। কোনো ধরনের দুর্নীতি ও খেলার স্পিরিটকে ক্ষুণ্ন করে, এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি আছে বিসিবির।’
সূত্র ইনকিলাব