গোল-পাল্টা গোলের চরম নাটকীয়তায় মোড়ানো রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচের সাক্ষি হলো ওল্ড ট্রাফোর্ড। ৯ গোলের সেই উত্তেজনার ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে অলিম্পিক লিওঁকে হারিয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বৃহস্পতিবার রাতে লিওঁকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলে ৭-৬ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারে উঠেছে হুবেন আমুরির দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ব্যবধানে স্কোরবোর্ডে সমতা আনে লিওঁ। ম্যাচ গড়াই অতিরিক্ত সময়ে। এবার দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ইউনাইটেডকে কোনঠাসা করে ফেলে লিওঁ।
কিন্তু হাল ছাড়েনি ইউনাইটেড। পরে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য এক কাব্য রচনা করে স্বাগতিকরা। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন হ্যারি ম্যাগুয়ের। এরপর বাধনহারা উল্লাসে মেতে ওঠে গ্যালারি।
পজেশন রাখায় অলিম্পিক লিওঁ আধিপত্য করলেও, আক্রমণে দুই দলই প্রায় সমানে সমান। গোলের জন্য উভয় পক্ষ মোট ২১টি করে শট নেয়, সফরকারীরা লক্ষ্যে রাখতে পারে ৯টি, আর ইউনাইটেড ৮টি।
গত সপ্তাহে লিওঁর মাঠে হওয়া প্রথম লেগেও দারুণ লড়াইয়ের দেখা মেলে। যেখানে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়।
ওই ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুটি গোল হজমের পেছনেই বড় দায় ছিল আন্দ্রে ওনানার। সেদিনের বাজে পারফরম্যান্সে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ক্যামেরুনের এই গোলরক্ষক, দল থেকে বাদও পড়েন। প্রবল সেই ধাক্কা সামলে, দলে ফিরে দারুণ কয়েকটি সেভ করলেন তিনি, হয়ে উঠলেন এই রূপকথার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই ম্যাচে মোট ৯ জন খেলোয়াড় জালের দেখা পেয়েছেন। একজন দেখলেন লাল কার্ড; মিডফিল্ডার তোলিসো ৮৯তম মিনিটে বহিষ্কার হওয়ায় অনেকটা সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় লিওকেঁ।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে খেলবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
তথ্যসূত্র ইনকিলাব