বুকভরা আশা আর রঙিন স্বপ্ন নিয়ে নতুন সংসার শুরু করলেও সর্বক্ষেত্রে ধরা দিচ্ছে না সুখ পাখি, কখনো কখনো মেহেদীর রঙ মোছার আগেই ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সংসার। আবার কখনো ৮-১০ বছর একসাথে থেকেও হচ্ছে না মনের মিল। ফলে বিচ্ছেদেই সমাধান খুঁজছে তারা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সংসারের বন্ধন দুর্বল হচ্ছে ক্রমেই, যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভালো লাগা, ভালোবাসাও যাচ্ছে কমে। ফলে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের মত ঘটনা।
গত এক দশকে বদলে গেছে তালাকের ধরন। আগে ৭০ শতাংশ তালাকের ঘটনা ঘটতো স্বামী কর্তৃক, কিন্তু “সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে” প্রচলিত এই প্রবাদকে মিথ্যে প্রমানিত করে এখন তালাকের ঘটনায় নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে গেছে, বর্তমান সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বিচ্ছেদ হচ্ছে নারী কতৃক।
আরো পড়ুন=>> যশোরে ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক
জেলা নিবন্ধন অফিসের দোয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জেলাতে মোট দুই হাজার একশত বিবাহের পাশাপাশি এক হাজার ১২৯টি তালাক নিবন্ধিত হয়েছে,এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৮০২টি বিবাহের বিপরীতে ৯৭৪টি তালাক, মুজিবনগর উপজেলায় ৫৫২টি বিবাহের বিপরীতে ২৩৩টি বিচ্ছেদ এবং গাংনী উজেলায় ৭৪৬টি বিবাহের বিপরীতে ৭২২টি তালাক নিবন্ধিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর অনিবন্ধিত বাল্যবিবাহ এবং তালাক। যার কোন কাগজপাতি নেই।
বিভিন্ন ম্যারেজ রেজিষ্ট্রারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে তালাকের কারণ হিসেবে যৌতুক ও শারিরীক নির্যাতন তেমন একটা নেই, গত ২/৩ বছরে তালাকনামায় যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সোস্যাল মিডিয়া যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকের অতিরিক্ত আসক্তি, স্ত্রীর পিতা-মাতার স্বামীর পরিবারে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রবণতা, সঠিক ভাবে স্ত্রীর ভরণ পোষণ করতে না পারা, যৌন অক্ষমতা এবং স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

এ ব্যাপারে কথা বললে মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু জানান, সামাজিক অবক্ষয়, একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধ বিচরণ, পরিবারের তদারকি না থাকা, অথবা একতরফা মূল্যায়ন ইত্যাদি কারনে সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে।
প্রায় একই রকম মন্তব্য করেন মানবাধিকার কর্মী ও হেল্প ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক দিলারা জাহান। তিনি জানান উদ্বেগজনক হারে মেহেরপুরে বিবাহ বিচ্ছেদদের ঘটনা বাড়ছে,নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সব খানেই তালাকের ঘটনা ঘটছে, দিলারা আরও জানান, গ্রাম অঞ্চলে বেশিরভাগ মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স হওয়ার আগেই বিয়ের পিড়িতে বসতে হচ্ছে।
কিছু দিন যেতে না যেতেই মনমালিন্য শুরু হয়, পরে বিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকে, এই সংখ্যাটা এখন অনেক, এছাড়াও অল্প বয়সে প্রেম-ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া, পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে, এগুলো আসলে বেশিদিন টেকে না। মোহ কমে গেলে ভালোবাসাও কমে যায়।