ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় একদিনে নিহত ৮৬ ফিলিস্তিনি

গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা। একদিনেই নিহত হয়েছেন বহু ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন শত শত। যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আবার শুরু হওয়া এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো নেই স্থায়ী শান্তির কোনো ইঙ্গিত।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) চালিয়েছে ভয়াবহ বিমান হামলা। এতে নিহত হয়েছেন ৮৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৮৭ জন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ৬০৯ জন এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৩ জনে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু, যা যুদ্ধের নির্মমতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
 
এই সংঘাতের সূচনা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের সীমান্ত পেরিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপরই ইসরায়েল শুরু করে প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চাপে ইসরায়েল ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান শুরু করে।
 
নতুন করে শুরু হওয়া এই দ্বিতীয় দফার অভিযানে মাত্র ১৫ দিনেই নিহত হয়েছেন আরও ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, এখনো জীবিত রয়েছে প্রায় ৩৫ জন জিম্মি, যাদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এর ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
 
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতোমধ্যে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলকে। এমনকি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)–এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর না করা পর্যন্ত এবং জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালু থাকবে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *