ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নতুনভাবে নির্মিত ‘মোরাগ করিডোর’ এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাফাহকে গাজার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, বিশেষত যখন গাজা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।
চলতি এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, তারা গাজা-মিশর সীমান্ত থেকে খান ইউনিস শহরের উপকণ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মোরাগ করিডোর’ দখল করেছে। এটি একটি কৌশলগত ভূখণ্ড, যার মাধ্যমে তারা গাজার দক্ষিণ প্রান্ত রাফাহ শহরকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল রাফাহকে একটি ‘সীমান্ত বাফার জোন’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে, যা থাকবে ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, এই নতুন বাফার জোনটি ৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা গাজার মোট আয়তনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এটি ফিলাডেলফি করিডোর থেকে শুরু হয়ে মোরাগ রুট পর্যন্ত বিস্তৃত একটি এলাকা, যেখানে আগে প্রায় ২ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করতেন। এই অঞ্চলটি রাফাহ শহরের প্রাণকেন্দ্র ছিল, কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে অঞ্চলটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গত ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় হামলা শুরু করে, যা জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তিকে ভঙ্গ করে। গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গাজায় প্রায় ৫১,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই সহিংসতা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নজরে এসেছে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। একইসাথে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি/ ইনকিলাব